মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সর্বশেষ হামলাগুলো ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার প্রতিশোধমূলক জবাব। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রাতভর অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া।
‘চুক্তি করতে চায় ইরান’, দাবি ট্রাম্পের
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ‘খুবই আগ্রহী’।
তবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তির যোগ্য কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি শেষ।’
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার দাবি আইআরজিসির
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হামলাকে ‘আমেরিকান চুক্তিভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযানের প্রথম ধাপ’ বলে উল্লেখ করে।
তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আরও মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হতে পারে।
‘বুলিং আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হবে’
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি যে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হয়’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা এখনো শেখেনি যে বুলিং এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আর বিনা খরচে করা যায় না।’
উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা
সাম্প্রতিক হামলার পর উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে কাতারও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত যেভাবে
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জবাবে তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ওই হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যদিও তেহরান সরাসরি দায় স্বীকার করেনি।
কূটনীতির পথ কি এখনো খোলা?
ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা বললেও অন্যদিকে দাবি করেছেন, ইরান আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘আমরা অশালীনতার জবাব অশালীনতা দিয়ে দিই না। আমরা জবাব দিই কাজে—নির্ভীকভাবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে।’
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্যে এখনো আলোচনার ইঙ্গিত থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

