বলিউড অভিনেতা আমির খানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতের ‘কুখ্যাত’ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট ও একটি ভয়েস নোট ঘিরে বিষয়টি তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি আমির খান বা তার টিম।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আরজু বিষ্ণোই’ ও ‘টাইসন বিষ্ণোই’ নামে দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে আমির খানের তৃতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তার বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা এমন কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই পোস্টে গত মাসে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ, পাচার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। ঘটনার দ্রুত তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রশংসা করা হলেও, অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বার্তার শেষ অংশে ‘পরভেশ’ ও ‘হিমাংশু’ নামে দুই ব্যক্তিকে ‘শহীদ ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি বলা হয়, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি এবং একটি কথিত ভয়েস নোট ছড়িয়ে পড়ার পর মুম্বাই পুলিশ ও সাইবার সেল তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা যাচাই করছেন, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অডিও বার্তাটি আসল কি না এবং এর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কোনো প্রকৃত সম্পর্ক রয়েছে কি না।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হুমকির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফল এবং আমির খান আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন কি না, তার ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বলিউড তারকাদের একজন সালমান খান। ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হুমকি দিয়ে আসছে এই গ্যাং। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ে সালমান খানের বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার দায়ও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা স্বীকার করেছিল।

