১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে ফ্রান্স। এর মাধ্যমে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে বয়সভিত্তিকভাবে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করল দেশটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ ও সিনেট বিলটি অনুমোদন করে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই আইন করা হয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। পাশাপাশি, বিদ্যমান অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট সরাতে সামাজিক মাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে চার মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোকে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই পদ্ধতি চালু করতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীদের বয়স নিশ্চিত করা যায়।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, ডিজিটাল জগতে শিশুদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ ইউরোপে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের অতিরিক্ত স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এ ধরনের বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, তারা ইতোমধ্যে ন্যূনতম বয়সসীমা ও শিশু সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রেখেছে। আইনটি কার্যকর হলে তা মেনে চলার কথা জানিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশনও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের এই আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে বিশ্বে প্রথম নজির তৈরি করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

