লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় আব্দুল মান্নান নামে এক ওমানপ্রবাসীকে পিটিয়ে আহত করার পর পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসা না দিয়ে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার ভাই মো. সেলিম।
এ ঘটনায় বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রায়পুর থানায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—মান্নানের স্ত্রী পারভীন বেগম, দুই ছেলে পারভেজ ও মাহাজ এবং শ্যালক ফয়েজ। তারা সবাই উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের উত্তর কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুল মান্নানকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন অভিযুক্তরা। গত ১০ জুলাই রাতে অর্থ-সম্পদের লোভে তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মাথার বাম পাশে ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর তাকে হাসপাতালে না নিয়ে চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মান্নানের ভাই মো. সেলিম তাকে দেখতে বাড়িতে যান। এ সময় পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, মান্নান ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সেলিম বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাই সেলিম বলেন, ‘আমার বড় ভাই প্রায় ৩০ বছর ওমানে ছিলেন। তার উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের লোভে স্ত্রী, দুই ছেলে ও শ্যালক তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সময়মতো উদ্ধার করতে না পারলে তার প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

