জাতীয় সর্বশেষ সারাদেশ

পুলিশের জন্য ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার যানবাহন কেনার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রস্তাবিত যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ডাবল কেবিন পিকআপ, জিপ, মাইক্রোবাস, বাস, অ্যাম্বুলেন্স, প্রিজন ভ্যান, বিশেষায়িত টহল গাড়ি, ওয়াটার ক্যানন ও দ্রুতগতির নৌযান।

সাধারণ যানবাহনে ব্যয় ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা

পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৮২৯টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৯০৯টি ডাবল কেবিন পিকআপ। প্রতিটি পিকআপের প্রস্তাবিত দাম ৮৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের জিপ, মাইক্রোবাস, বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রিজন ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষায়িত যানবাহনে ব্যয় ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য আরও ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ তালিকায় রয়েছে আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), ওয়াটার ক্যানন, ক্রাউড কন্ট্রোল ভেহিকেল, সোয়াট ভ্যান, বিশেষায়িত প্যাট্রোল কার, মোটরসাইকেল ও উদ্ধারকারী নৌযান।

কেন নতুন যানবাহন প্রয়োজন?

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অনেক যানবাহন পুড়ে যায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরোনো গাড়ির একটি অংশও অভিযানের সময় বিকল হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সারা দেশে পুলিশের ৪৫৫টি যানবাহন পুড়ে যায় এবং মোট ১ হাজার ৭৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

এত বিপুল অর্থের সংস্থান এবং যানবাহনগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

যানবাহন কেনার পাশাপাশি জ্বালানি, মেরামত, যন্ত্রাংশ ও পরিচালন ব্যয়ের জন্যও পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেনা গাড়ির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্প দুটি ২৫ অক্টোবরের একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *